শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮:৫৮ পিএম, ২০২১-১০-১৪
*মিজানুর রহমান চৌধুরী*
অরক্ষিত নালায় পড়ে মানুষ মরছে। দায় নিচ্ছে না কেউ। রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে। চট্টগ্রামের ‘লাইফলাইন’ খ্যাত কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হলেও শেষ হয়নি। আইনি লড়াইয়ে যাচ্ছে নদী আন্দোলনের সংগঠন। উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সুফল পেতে হলে সচল ও টেকসই নগরীর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু নদী ও নগর রক্ষায় বরাবরই উদাসীন রাজনৈতিক পদধারীরা। জনস্বার্থের কর্মকান্ডগুলোতে নিষ্ক্রিয় থাকছেন তারা। ফিরিঙ্গিবাজার থেকে নতুন ব্রিজের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত এলাকায় প্রতিদিনই গড়ে উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা। ব্রিজের পশ্চিমে লাগোয়া জায়গাটি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাক ও বাস টার্মিনাল। চলছে বালু দিয়ে ভরাট কাজ। সেখান থেকে রাজাখালী খালের মুখ পর্যন্ত স্থানে গড়ে উঠছে দোকান আর দোকান। এরপরই আছে নদী দখল করে গড়ে ওঠা মৎস্য আড়ৎ। উচ্ছেদ ঠেকাতে নির্মাণ করা হয়েছে ধর্মীয়সহ নানা স্থাপনা। আর সদরঘাট এলাকায় উচ্ছেদকৃত স্থানগুলো এখন ব্যবহার হচ্ছে ট্রাক-লরি এবং পণ্য লোড আন-লোডের ঘাট হিসাবে। দখল হয়ে গেছে উচ্ছেদকৃত অনেক স্থাপনা। চট্টগ্রামকে ঘিরে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। কিন্তু জনসাধারণের অধিকার সুরক্ষা উপক্ষেতি হচ্ছে। নালায় পড়ে মানুষ মরছে তবুও রাজনৈতিক অবস্থান বলে চেয়ারে বসা মানুষগুলো দায় নিচ্ছেন না। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন না। রাজনৈতিক মৌলিকতা নেই এমন মানুষদের দায়িত্বে ও চেয়ারে বসানোর কারণে এমনটা হচ্ছে বলে দাবি জনসাধারণের। প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রাম আজ চরম নেতৃত্ব সংকটে দিন পার করছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে চট্টলার সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, কর্ণফুলী নদীকে নিজস্ব অবয়বে ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকার নির্দেশ দিয়েছে সারাদেশে নদীর জায়গা নদীকে ফেরত দিতে। মাছবাজারের বিষয়টা নিয়ে এর আগেও আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনও সমাধান হয়নি। নদীরক্ষা কমিশন সিদ্ধান্তও দিল নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে। নদীর জায়গা দখল করে যারা ব্যবসা করবে তারা যাতে জায়গা ছেড়ে দেয় আমরা তার ব্যবস্থা করবো। তবে এখানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটা সমস্যার সৃষ্টি করে রেখেছে। তা আমরা নিরসন করবো। বাইরে থেকে কেউ এসে নদী দখল করে দোকান বিক্রি করবে তা হতে দেয়া যাবে না। সারাদেশে নদীর জায়গা নদীকে ফেরত দেয়া হচ্ছে। এখানে কার পয়সায় কার ক্ষমতাবলে এটা করা হয়েছে তা বন্ধ করতে আমরাও দাবি জানাই। নালায় পড়ে চারমাসে চারজন মারা গেছেন। একজনের লাশ খুঁজেও পাওয়া যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ধারণে জরিপ চালাচ্ছে সিটি করপোরেশন। ওয়াসা ইচ্ছেমত রাস্তা কাটছে। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। উন্নয়ন কর্মকান্ডে সমন্বয়হীনতায় নাগরিক দুর্ভোগ চরমে। এ শহরের চালিকা শক্তি সাধারণ মানুষ। তাদের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো টনক নড়ছে না। তার অন্যতম কারণ হলো, প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার যারা আছেন তারা জনগণের কান্না-কষ্টকে অনুভব করতে পারেন না। ভোগ আর লোক দেখানো টাকার অংকে উন্নয়নের মাপকাটি দেখিয়ে যাচ্ছেন। জনগণের জন্য এসব টাকা ব্যয় হচ্ছে অথচ জনগণ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে সেটা নিয়ে কেউ ভাবছেন না। কারণ দূরদর্শী নেতৃত্ব নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে। নগরের ভেতর নদী, শাখা নদী, খাল, নালা দখলের কারণে পানি চলাচল করতে পারছে না। জলাবদ্ধতা তারই ফলাফল। কিন্তু জলাবদ্ধতা রোধে হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কয়টি খাল আগের অবস্থান ফিরে পেয়েছে ? আর এস খতিয়ান অনুসারে খালগুলো পুনরুদ্ধারে দাবি উঠলেও কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না। মাস্টারপ্ল্যান যে করে সে প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে বেশি শর্তভঙ্গ করছে। চট্টগ্রামের বিশিষ্টজন ও জনসাধারণ মনে করছেন সমন্বয়, রাজনৈতিক ঐক্য ও সঠিক নেতৃত্বই এগিয়ে নিতে পারে চট্টগ্রামকে। আসুন আমরা সেই পথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি । আর পরিকল্পিত, জলাবদ্ধতাহীন নগর গড়ি।
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকে ...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : ক্ষমতার বাহাদুরি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। যারা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ভীতু ও হতাশ...বিস্তারিত
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : পতিত সরকার ও ভাইরাল ইস্যু ছাড়া কোনো মামলায় নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন, এমনকি জিডি পর্যন্ত করা যাচ্ছ...বিস্তারিত
সম্পাদকীয় ডেস্ক :: : আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম বিদেশীদের দু'হাত ভরে সহযোগিতা ও প্রবাসীদের অকাতরে রেমিটেন্স পাঠানোর ফলে ...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ নামে পরিচিত হালদা নদী নিয়ে বহুল প্রচারিত একটি ভূল মতবাদ রয়েছে। মতবাদটি হ...বিস্তারিত
ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ : সোমবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited